Study in China to Work in China: আমার রিয়েল লাইফ জার্নি ও ক্যারিয়ার গঠন

শেয়ার করুন

চায়নাতে ৬ বছর আগে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল এক ঠাণ্ডা ভোরে, আজ তা পরিণত হয়েছে কর্পোরেট জংগলে!

আমার Student Life এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারির এক ভোরে; যে ভোরে ঠান্ডা এত বেশি ছিল, মনে হচ্ছিল বাতাসও কোট পরে এসেছে! এয়ারপোর্টে নামতেই ইউনিভার্সিটির বাস আমাদের নিতে হাজির। Nanjing থেকে ইউনিভার্সিটির দূরত্ব দুই ঘণ্টা; মানে Netflix মুভি একটাও শেষ করার সময় নেই (যদিও বাসে ঘুমই বেশি এসেছিল)।

বাসের জানালা দিয়ে প্রথমবার Chinese Town এত কাছে দেখে মনে হচ্ছিল আমি কোনো সিনেমার সেটে বসে আছি। রাস্তা এতোটা শান্ত, না কোনো বাসের হর্ন, না রিকশাওয়ালার “জাইবেন নাকি?” টাইপ ডাক। ধীরে ধীরে NUIST ইউনিভার্সিটির গেইট দেখা গেল; যে গেট আমি ইউটিউবে হাজারবার দেখেছি, কিন্তু এবার সেটা লাইভ HD ভার্সনে!

বাস থেকে নামতেই ঠান্ডা আমাকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরল যেন পুরোনো প্রেমিকা হঠাৎ “হাই” বলে হাজির হয়েছে। ক্লান্তি, ঘুম, ভয় সব একসাথে! কিন্তু সেই মুহূর্তটায় বুঝলাম, “দা জার্নি ইন NUIST” শুরু হয়ে গেছে। আমার ৬ মাসের ছোট্ট একটি জার্নি ছিলো মেইন ক্যাম্পাসে, তারপর ৪ বছরের ব্যাচেলর অন্য ক্যাম্পাসে।

Source: Facebook Profile

Shanghai এর পাশের শহর Wuxi তে কাটানো ৪ বছর যেন এক সিনেমা। ভালোবাসা, অভিজ্ঞতা আর নিজের ভেতরে বড় হয়ে ওঠা। ইংরেজি এখন ঠিকঠাক চলে, চাইনিজও একটু-আধটু রেস্তোরাঁয় অর্ডার দেওয়ার মতো শিখে ফেলেছি ততোদিনে।

একদিন ইউটিউবে Egal-এর ভিডিও দেখে মাথায় বাজ পড়ল; জার্মানিতে নাকি ফ্রি টিউশন ফি! মাথায় তখন শুধু একটাই ভাবনা: “মধ্যবিত্তের কেউ ইউরোপে গেলে গলায় মেডেল ঝুলিয়ে হাঁটে”; আমিও সেই পথেই হাঁটতে চাই। প্ল্যান করলাম ২০২৪-এ মাস্টার্স ধরবো। এদিকে ব্যাচেলরের শেষের দিকে চায়নায় Internship Offer পেলাম। স্টেট ওউনড কোম্পানির Interntship এ ঘুরে বেড়ালাম অনেক শহরে; বিনামূল্যে ভ্রমণ, তবে অফিসের হয়ে! কিন্তু Bachelor’s এর পরে Job Visa পাওয়া কঠিন; Master’s বা অভিজ্ঞতা ছাড়া সম্ভব না। তাই আবার পড়াশোনায় মন দিলাম, আর ভাগ্যক্রমে Master’s এ Full Funded Scholarship পেলাম।

কিন্তু কর্পোরেট লাইফের প্রতি টানটা যেন “টাকার গন্ধে নাক কাটা” টাইপ ছিল🤣। ১ম বর্ষ কোনোরকম শেষ করেই জার্মানি যাওয়ার জন্য IELTS, APS করলাম, ৬টা ইউনিতে অ্যাপ্লাই করলাম তার মধ্যে ৫টায় রিজেক্ট, ৬ষ্ঠ টায় Leuphana University, Luneburg থেকে অফার। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে যাওয়া হলো না।

Master’s এর বিরতিহীন প্রতিযোগিতা চলতে থাকলো। তারপর আবার ইন্টার্নশিপ, থিসিস আর জব হান্টিং। একে একে সব কিছুর হিসেব মিটিয়ে ডিগ্রি হাতে নিয়ে নেমে পড়লাম কর্পোরেটের অসুস্থতায়। জব ফেয়ার থেকে শুরু করে Boss, 58 Apps গুলো Social Media র মতো ইউজ করতাম। একদিন অবশেষে সেই স্বপ্নের জব অফার এলো। কিন্তু ভিসা কনভার্ট করার ঝামেলা যেন রুবিক্স কিউব সমাধানের মতো; প্রতিটি শহরের আলাদা নিয়ম! কিভাবে হলো তা নিয়ে অন্য একদিন হয়তো লিখব। অবশেষে সব পেরিয়ে কর্পোরেট লাইফে ঢুকলাম।

শেষ কথা, এই যাত্রায় একা হাঁটিনি, বরং প্রতিটি ধাপে ভুল আর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি। তোমরাও যদি চায়নায় পড়াশোনা, জব ভিসা, বা ইউরোপের স্বপ্ন নিয়ে প্রশ্ন থাকে, জানাও! আশা দিচ্ছি যতোটুকু জানি, পাশে থাকবো।

শুকরিয়া, আল্লাহর নামে, আর আমার শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতার নামে; যাদের দু’আ ও ভালোবাসা ছাড়া এই যাত্রা অসম্ভব ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Today

16

August 2025

Current Event

Upcoming Event

Let's contact to know more